সোমবার, ০৬ Jul ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন

বর্জ্য উৎপাদন দ্বিগুণ হওয়ায় পরিস্থিতি বেসামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর তরল বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদন হচ্ছে। কঠিন বর্জ্যে ডাম্পিং এলাকা পরিপূর্ণ হয়ে বর্জ্য সড়কে এসে পড়ছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। ট্যানারি মালিকরা আরও একটি বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। তবে পরিবেশ অধিদফতর বলছে, কয়েক বছর ধরে কারখানাগুলো ছাড়পত্র ছাড়াই কারখানা পরিচালনা করে আসছে। কারখানার বর্জ্য পার্শ্ববর্তী ধলেশ্বরী নদীতে ফেলায় পানি দূষণ হচ্ছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর।

এদিকে পরিবেশ দূষণের দায়ে সাভারের হেমায়েতপুরের চামড়া শিল্প নগরীর ৮টি চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাকে ২১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন পরিবেশ অধিদফতরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবেশ অধিদফতরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার পরিচালক ও উপসচিব রুবিনা ফেরদৌসির নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পরীক্ষার জন্য সিইটিপির পানির নমুনাও সংগ্রহ করেন কর্মকর্তারা। কারখানাগুলো হল- মেসার্স কহিনুর ট্যানারি, ইউনিকর্ন লেদার (মেসার্স ইন্টারন্যাশনল ট্যানারি), মেসার্স গুলশান ট্যানারি, আঞ্জুমান ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড, ভেলেক্স এজেন্সিস লিমিটেড, মেসার্স কিড লেদার, মেসার্স সুপিরিয়র লেদার এবং মেসার্স টিপ্পেরা ট্যানারি।

এর মধ্যে মেসার্স গুলশান ট্যানারি ও সুপিরিয়র লেদার ইন্ডাস্ট্রিজকে ৫ লাখ টাকা করে, মেসার্স কহিনুর ট্যানারিজ, ইউনিকর্ন লেদার ও ভেলেক্স এজেন্সিস, কিড লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ ও টিপ্পেরা ট্যানারিকে ২ লাখ টাকা করে এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন ছাড়া কারখানা পরিচালনার অপরাধে মেসার্স আঞ্জুমান ট্রেডিং কর্পোরেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রুবিনা ফেরদৌসি বলেন, কারখানাগুলোকে জরিমানার পাশাপাশি পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র গ্রহণ ও দূষণ রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিসিক অফিস সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) ধারণ ক্ষমতা ২৫ হাজার ঘনমিটার। ঈদুল আজহা পরবর্তী ৩ মাস ট্যানারির কার্যক্রম বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। এ সময়ে সিইটিপির ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার ঘনমিটার তরল বর্জ্য বৃদ্ধি পায়। জানা যায়, এক টন চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে স্বাভাবিকভাবে ৩০ হাজার লিটার পানির প্রয়োজন। কিন্তু ট্যানারিগুলো এক টন চামড়ার বিপরীতে ব্যবহার করছে ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার লিটার পানি। তবে ট্যানারি মালিকরা বলছেন, এক টন চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ৩০ হাজার লিটারেরও কম পানি ব্যবহার করা হচ্ছে।

ট্যানারি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে তরল বর্জ্যরে পাশাপাশি তৈরি হয় কঠিন বর্জ্য। যেমন- পশুর কান, লেজ, শিং, হাড়, লোম, চামড়ার কাটপিস, গোশতের ঝিল্লি ইত্যাদি। এসব ফেলা হয় ডাম্পিং ইয়ার্ডে। বিসিকের দেয়া তথ্যমতে, ১৯৪.৪০ একর আয়তনের প্রকল্পটিতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার (ডাম্পিং ইয়ার্ড) জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৬ একর জমি। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। এতে কঠিন বর্জ্যে ডাম্পিং এলাকাগুলো পরিপূর্ণ হয়ে উপচে পড়ছে সড়কে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারপাশে। ডাম্পিং ইয়ার্ডে কর্মরত শ্রমিকরা বলছেন, দ্রুত এসব বর্জ্য না সরালে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে না।

স্থানীয়রা জানান, মাটির গভীরে প্রায় শতাধিক প্লাস্টিকের পাইপ বসানো হয়েছে। যা দিয়ে ট্যানারির বর্জ্য সরাসরি পড়ছে ধরেশ্বরীর পানিতে। নদীতে পানি বেশি থাকায় বর্তমানে পাইপগুলো পানিতে ডুবে গেছে। চামড়া শিল্প নগরীর (বিসিক) প্রকল্প পরিচালক জিতেন্দ্র নাথ পাল যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে কিছু কারখানায় আগের তুলনায় উৎপাদন ৩ থেকে ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে তরল বর্জ্য বেড়ে গেছে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com